হঠাৎ অজ্ঞান আপনার প্রিয়জন! কি করবেন?
আশেপাশের কাউকে হঠাৎ জ্ঞান হারাতে দেখলে আমরা ভীষণই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। কী করব, কোথায় নিয়ে যাব—একথা ভাবতে ভাবতেই অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। অথচ সেই কয়েক মিনিটই কখনো কখনো হয়ে উঠতে পারে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। ঠিক সেই সময়টুকুতেই কার্যকরী হয়ে ওঠে CPR.
এখন প্রশ্নটা হচ্ছে কী এই CPR ?
CPR কোনো যন্ত্র নয়, কোনো ওষুধও নয়। এটি মূলত দুই হাতের মাধ্যমে কয়েক মিনিটের সচেতন প্রচেষ্টা। হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে বুকের মাঝখানে নির্দিষ্ট ছন্দে পদ্ধতিতে চাপ দেওয়া দিলে শরীরের ভেতরে আবার রক্ত চলাচলের রাস্তা তৈরি হয়। মস্তিষ্কে পৌঁছায় অক্সিজেন, ফিরে আসে বাঁচার সুযোগ। সবমিলিয়ে বলতে গেলে CPR একটি সহজ অথচ গভীর মানবিক প্রয়াস।
CPR (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) এমন একটি জীবনরক্ষাকারী পদ্ধতি, যার মাধ্যমে সাময়িকভাবে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের কাজ চালু রাখা যায়, যতক্ষণ না বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হয়। CPR মূলত দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়—বুকের ওপর চাপ দেওয়া (Chest Compression) এবং প্রয়োজনে মুখে মুখে শ্বাস দেওয়া (Rescue Breathing)। বুকের ওপর সঠিক পদ্ধতিতে চাপ দিলে রক্ত চলাচল কিছুটা বজায় থাকে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছায়। এতে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। আধুনিক নির্দেশিকায় সাধারণ মানুষের জন্য শুধুমাত্র হ্যান্ডস-অনলি CPR বা শুধু বুক চাপ দেওয়াকেও কার্যকর বলা হয়েছে।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে অনেক মানুষ CPR সম্পর্কে জানেন না বা ভয় ও দ্বিধার কারণে এগিয়ে আসেন না। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, সময়মতো CPR শুরু হলে হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তাই স্কুল, কলেজ, অফিস এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে CPR প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
CPR শেখা মানেই ডাক্তার হওয়া নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিক হওয়া। সঠিক জ্ঞান ও সাহস থাকলে যে কেউ একটি মূল্যবান জীবন বাঁচাতে পারেন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে CPR শুধু একটি চিকিৎসা পদ্ধতি নয়, এটি মানবিক দায়িত্বের প্রতীক। জীবন বাঁচানোর এই সহজ অথচ শক্তিশালী কৌশলটি যত বেশি মানুষের জানা থাকবে, সমাজ তত বেশি নিরাপদ হয়ে উঠবে।





